+880 1872-871345 info@jashimuddinfoundation.com চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
কার্যক্রম তারিখ: মে ১৫, ২০২৪

ভূমিকা মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের সমাজের বহু প্রান্তিক মানুষ এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। অসহায় ও গৃহহীন মানুষের এই মৌলিক কষ্ট দূর করতে সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ভিত্তিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান 'আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন'। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুনর্বাসনে প্রতিষ্ঠানটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

টিন ও গৃহনির্মাণ বিতরণ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট

আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান ও সফল কর্মসূচি হলো গ্রামীণ অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন বিতরণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল টেকসই ঘর তৈরি করে দেওয়া। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেসব পরিবারের পুরোনো ঘর ভেঙে গেছে কিংবা টাকার অভাবে চালের টিন পরিবর্তন করতে পারছে না, তাদের জন্য এই প্রকল্প এক আশীর্বাদস্বরূপ। অতি সম্প্রতি প্রায় ১০,০০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে এই গৃহসামগ্রী ও টিন বিতরণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ফাউন্ডেশনটি কাজ করে যাচ্ছে।

কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ: এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং এর জন্য আবেদনকারীকে কোনো প্রকার টাকা পয়সা বা ফি দিতে হয় না।

  • টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল ঘর: ফাউন্ডেশনটি শুধু টিন বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে মজবুত খুঁটি ও চালসহ একটি সম্পূর্ণ দুর্যোগ-সহনশীল ঘর তৈরি করে দেয়।

  • নারীদের অগ্রাধিকার: সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও ঝুঁকিতে থাকা বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রতিবন্ধী সদস্যদের পরিবারকে টিন ও ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

  • সরাসরি ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ না রেখে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রতিনিধি দল সরাসরি আবেদনকারীর জমিতে গিয়ে বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত প্রাপককে নির্বাচন করেন।

সামাজিক প্রভাব ও গুরুত্ব

এই টিন বিতরণ কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। একটি মজবুত টিনের চাল পাওয়ার ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। ঘর মেরামতের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলো সেই টাকা সন্তানদের শিক্ষা ও জীবিকার পেছনে লাগাতে পারছে, যা পরোক্ষভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে।

উপসংহার

সরকারি কোনো অনুদান ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল এবং দাতাদের সহায়তায় ১০,০০০ পরিবারের পুনর্বাসনের মতো এত বড় আকারের টিন বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা সত্যিই প্রশংসনীয়। আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আশার আলো ছড়াচ্ছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত এই ধরনের বেসরকারি ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমে এগিয়ে আসা, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।